১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট

ধরে নিচ্ছি আপনি একটা ই-পাসপোর্ট বানাতে চান। কিন্তু কত বছর মেয়াদি বানাবেন তা বুঝতে পারছেন না? সমস্যা নেই! মীর বাংলা ডট কম এর এই পোষ্টে আজকে আমরা ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো। বিস্তারিত জানতে ও বুঝতে পোষ্টটি সম্পূর্ণ পড়ুন।

মুল পোষ্টে যাওয়ার আগে জেনে নেওয়া যাক ই-পাসপোর্টের মেয়াদ বলতে কি বোঝানো হয়েছে।

ই-পাসপোর্টের মেয়াদ বলতে কি বোঝায়?

আপনি আপনার পাসপোর্টটি কত বছরের জন্য বানাবেন অথবা পাসপোর্টটি বানানোর পর তা কতদিন পর্যন্ত বৈধ থাকবে সেইটাকে বোঝায়। একটা উদাহরণ দিয়ে বিষয়টা স্পষ্ট করা যাক।

মোবাইলে ইন্টারনেট কেনার সময় আমরা সাধারণত ৩ দিন মেয়াদি, ৭ দিন মেয়াদি অথবা ৩০ দিন মেয়াদি প্যাকেজ কিনে থাকি। অর্থাৎ, ৩ দিন মেয়াদে যদি কোন ইন্টারনেট প্যাকেজ কিনি তাহলে সেটা ঠিক ৩ দিন পর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাবে। তখন তা আর কার্যকর থাকবে না।

ই-পাসপোর্ট এর মেয়াদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি ঠিক তেমনি। ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট বানাতে দিলে পাসপোর্ট হাতে পাবার পর থেকে ঠিক ১০ বছর পর্যন্তই সেই পাসপোর্টটি কার্যকর থাকবে। ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট এর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলে তা পুনরায় রিনিউ করতে হয়।

মোট কথা ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট বানালে আপনি ১০ বছর পর্যন্ত পাসপোর্টটি দিয়ে যেকোন দেশে যেতে পারবেন। তারপর আপনাকে পাসপোর্টটি রিনিউ করতে হবে।

১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট

এখন ধাপে ধাপে ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট সম্পর্কে সকল তথ্য আলোচনা করা হবে। বিষয়গুলো অনুচ্ছেদ আকারে উপস্থাপন করা হলো।

১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট বানাতে কি কি লাগবে?

আপনি পাসপোর্ট যে কয় বছরেরই বানান না কেন তা বানাতে একই ডকুমেন্টস লাগবে। ই-পাসপোর্ট করার প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস তালিকা নিচে উল্লেখ করা হলো-

বিঃদ্রঃ পাসপোর্ট করার জন্য যদি কোন লবিং করে থাকেন তাহলে উপর থেকে শুধুমাত্র আবেদন সামারী কপিটিরই দরকার হবে।

আরোও পড়ুনঃ সফল উপস্থাপক মীর আফসার আলী

১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট এর ধরন

সাধারণত ধরন অনুযায়ী ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট দুই ধরনের হয়ে থাকে। 

  • ৪৮ পাতা বিশিষ্ট ই পাসপোর্ট 
  • ৬৪ পাতা বিশিষ্ট ই পাসপোর্ট 

যে সকল লোকজন তুলনামুলক কম বিদেশ যাতায়াত করেন তাদের জন্য ৪৮ পাতা বিশিষ্ট ই পাসপোর্ট উপযুক্ত। অন্যদিকে যাদের বিদেশে তূলনামূলক বেশি যাতায়াত করার প্রয়োজন পড়ে তাদের জন্য ৬৪ পাতা বিশিষ্ট ই পাসপোর্ট টি উপযুক্ত।

১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট এর ফি

মেয়াদ আর পাতা সংখ্যা আর ডেলিভারির ধরনের উপর নির্ভর করে ই-পাসপোর্টের ফি কত লাগবে। মেয়াদ তো ১০ বছরই হবে। কিন্তু পাতা সংখ্যা যদি ৪৮ বা ৬৪ হয়ে থাকে তাহলে ফি কম বেশি হবে। আবার পাসপোর্টটি ডেলিভারি যদি নরমাল ভাবে পেতে চান তাহলে একরকম ফি। এক্সপ্রেস ডেলিভারি পেতে চাইলে আবার অন্যরকম ফি। নিচে ছক আকারে ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট ফি তুলে ধরা হলো:

১০ বছর মেয়াদি ৪৮ পাতার ই পাসপোর্ট

ডেলিভারির ধরন অপেক্ষাকৃত দিন ফি এর পরিমাণ
রেগুলার ডেলিভারি ১৫ থেকে ২১ দিন ৫৭৫০ টাকা
এক্সপ্রেস ডেলিভারি ৭ থেকে ১০ দিন ৮০৫০ টাকা
সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি ২ দিন ১০৩৫০ টাকা

১০ বছর মেয়াদি ৬৪ পাতার ই পাসপোর্ট

ডেলিভারির ধরন অপেক্ষাকৃত দিন ফি এর পরিমাণ
রেগুলার ডেলিভারি ১৫ থেকে ২১ দিন ৮০৫০ টাকা
এক্সপ্রেস ডেলিভারি ৭ থেকে ১০ দিন ১০৩৫০ টাকা
সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি ২ দিন ১৩৮০০ টাকা

উপরে উল্লেখিত ফি হলো সরকার নির্ধারিত। তবে কোন চ্যানেলের মাধ্যমে পাসপোর্ট বানাতে গেলে উপরের টাকার পরিমাণের সাথে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা বেশি লাগবে।

১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট পেতে কত দিন লাগে

ডেলিভারিরর ধরনের উপর নির্ভর করে ই-পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার সময় কতটুকু হবে।

  • রেগুলার ডেলিভারিতে সময় লাগে ১৫ কর্ম দিবস বা মোট ২১ দিন।
  • এক্সপ্রেস ডেলিভারিতে সময় লাগে ৭ কর্ম দিবস বা মোট ১২ দিন
  • সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারিতে সময় লাগে ২ থেকে ৩ কর্ম দিবস

তবে, পাসপোর্ট অফিসের চাহিদা অনুসারেও সময় কম বেশি হয়ে থাকে। যদি পাসপোর্ট বানানোর চাপ বেশি থাকে তখন তূলনামূলক সময় আর কয়েকদিন বেশি লাগে। আবার চাপ কম থাকলে ২১ দিন বা ১২ দিনের মধ্যেই পাসপোর্ট হাতে পেয়ে যাবেন।

এই ছিল ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য। আশা করছি এই পোষ্ট পড়ার পর আর কোন সমস্যা থাকবে না। তবুও কোন সমস্যা থাকলে নিচে থেকে কমেন্ট করতে পারেন।

১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট সম্পর্কিত কিছু প্রশ্নোত্তর

১০ বছর মেয়াদি ই পাসপোর্ট কত টাকা?

✅ ডেলিভারি ধরন অনুযায়ী ৫,৭৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১৩,৮০০ টাকা পর্যন্ত।

10 বছর মেয়াদি পাসপোর্ট করতে কত খরচ হবে?

✅ডেলিভারি ধরন অনুযায়ী ৫,৭৫০ টাকা, ৮,০৫০ টাকা, ১০,৩৫০ টাকা, ১৩,৮০০ টাকা।

সুপার এক্সপ্রেস পাসপোর্ট কত দিনে পাওয়া যায়?

✅যেদিন আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ডকুমেন্টস জমা দিবেন এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ছবি উঠবেন সেদিন থেকে পরবর্তী দুই কর্ম দিবসের মধ্যেই পেয়ে যাবেন।

ই পাসপোর্ট কত দিনে পাওয়া যায় ২০২২

✅যেদিন আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ডকুমেন্টস জমা দিবেন এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ছবি উঠবেন সেদিন থেকে পরবর্তী ২, ১৫, ২১ কর্ম দিবসের মধ্যেই পাসপোর্ট হাতে পেয়ে যাবেন।

মেয়াদি পাসপোর্ট বলতে পাসপোর্টের মেয়াদকে বোঝানো হয়েছে। ১০ বছর বলতে পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর থেকে পরবর্তী দশ বছরকে বোঝানো হয়েছে। ই পাসপোর্ট হলো ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট। এই পাসপোর্টে একধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্র বসানো থাকে। যে ই পাসপোর্ট ১০ বছর মেয়াদের জন্য পাওয়া যায় তাকে ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট বলে।

১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট

ই-পাসপোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল, যা আপনাকে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ ও বিদেশে অবস্থানের জন্য সমর্থন করে। এটি নতুন প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে একটি ইলেকট্রনিক রূপ ধারণ করেছে, যা আপনাকে অনলাইনে পাসপোর্ট আবেদন ও নতুন করার সুবিধা প্রদান করে। ই-পাসপোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো মেয়াদের সীমা। এই মেয়াদ সীমা সাধারণত ১০ বছর হয় এবং এই সময়ের পর পাসপোর্টটি পুনরায় নতুন করতে হয়।

ই-পাসপোর্টের ১০ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হলে নতুন পাসপোর্টের জন্য আপনাকে আবার আবেদন করতে হবে। এই আবেদন প্রক্রিয়াটি আপনি ই-পাসপোর্ট অনলাইনে অথবা পাসপোর্ট অফিসে সরাসরি সম্পাদন করতে পারেন। আবেদনপত্র সম্পর্কিত সকল প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করতে হবে এবং যথাযথ ফি পরিশোধ করতে হবে। তারপরে আপনি আপনার আবেদনপত্র সম্পর্কিত রসিদ পেয়ে নতুন ই-পাসপোর্টটি সংগ্রহ করতে পারবেন।

ই-পাসপোর্টের ১০ বছরের মেয়াদ উল্লেখযোগ্য সুবিধার সাথে কিছু সমস্যাও সম্পর্কিত। যদি আপনি ১০ বছরের মধ্যেই নতুন পাসপোর্ট না নিয়ে আপনার যাত্রায় যান, তবে অনেকগুলি দেশ আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পরিষেবা সরবরাহ করতে পারে না। তাই আপনাকে ভ্রমণ করার আগে নতুন পাসপোর্ট আবেদন করতে বাধ্য থাকতে পারে। এছাড়াও, ই-পাসপোর্টের ১০ বছরের মেয়াদ শেষ হলে ইউনিভার্সাল পাসপোর্ট মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায় এবং অতিসত্তর পাসপোর্টের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়।

ই-পাসপোর্ট ব্যবহার করে আপনি আপনার ভ্রমণ সহজ ও সহজ করতে পারেন। এটি আপনাকে অনলাইনে আবেদন করতে এবং স্বচ্ছতায় সঠিক তথ্য সরবরাহ করতে পারে। ই-পাসপোর্ট সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানের জন্য আপনি পাসপোর্ট অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন অথবা ই-পাসপোর্টের সমর্থন পোর্টালে সাহায্যের জন্য আবেদন করতে পারেন। ই-পাসপোর্টের ১০ বছরের মেয়াদের জন্য প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করতে হবে যথাযথ ফি পরিশোধ করতে হবে।

সম্পাদনা উপসংহার

ই-পাসপোর্ট একটি মুদ্রিত পাসপোর্টের ইলেকট্রনিক সংস্করণ যা আপনাকে ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ প্রদান করে। তার মাধ্যমে আপনি সহজেই বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করতে পারবেন এবং অনলাইনে পাসপোর্ট সেবাগুলি উপভোগ করতে পারবেন। ই-পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়া সহজ ও সহজে পূর্ণ হয় এবং স্বচ্ছতায় তথ্য সরবরাহ করে। সঠিক প্রমাণ প্রদানের পরে, আপনি নতুন ই-পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন।

ই-পাসপোর্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার পর

যদি আপনার ই-পাসপোর্টের ১০ বছরের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তবে আপনার পূর্ববর্তী ই-পাসপোর্টটি বাতিল করতে হবে এবং নতুন ই-পাসপোর্ট জন্য আবেদন করতে হবে। এই আবেদন প্রক্রিয়াটি ই-পাসপোর্ট অফিসে সরাসরি সম্পাদন করা যেতে পারে বা অনলাইনে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করা যেতে পারে। আপনাকে আবেদনের জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করতে হবে এবং যথাযথ ফি পরিশোধ করতে হবে। আবেদনের পরে, আপনি আপনার নতুন ই-পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন এবং এর মাধ্যমে ভ্রমণের সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।

সমাপ্তি

ই-পাসপোর্ট একটি সুবিধাজনক ও প্রভাবশালী পাসপোর্ট প্রাণান্ত প্রয়োজনীয় পত্র। এটি আপনাকে আপনার ভ্রমণ সুবিধা দিতে সাহায্য করবে এবং বিভিন্ন সুবিধার সাথে আপনার পরিচিতি প্রমাণ করবে। আমরা আশা করি যে, আপনি এই প্রক্রিয়াটি ব্যবহার করে আপনার নতুন ই-পাসপোর্ট সংগ্রহ করবেন এবং ভবিষ্যতে আপনার ভ্রমণ সহজ করবেন।

প্রশ্নগুলির উত্তর

১. কি কারণে আমি নতুন ই-পাসপোর্ট প্রয়োজন পাই?

আপনার পূর্ববর্তী ই-পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বা তা বাতিল করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে আপনাকে নতুন ই-পাসপোর্ট আবেদন করতে হবে।

২. কতক্ষণে নতুন ই-পাসপোর্ট পাবেন?

নতুন ই-পাসপোর্ট আপনি প্রাপ্ত করতে পারেন পাসপোর্ট অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করে বা অনলাইনে আবেদন করে। আপনার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সময় লাগতে পারে তবে সাধারণত এটি ২-৪ সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হয়।

৩. কি প্রমাণ পত্র প্রয়োজন হবে নতুন ই-পাসপোর্টের জন্য?

নতুন ই-পাসপোর্ট জন্য আপনাকে বৈধ পরিচিতি প্রমাণ পত্র সরবরাহ করতে হবে, যেমন জন্ম সনদ, ন্যাশনাল আইডি কার্ড, অথবা পাসপোর্ট প্রমাণ করতে হবে।

৪. ই-পাসপোর্ট কিভাবে বাতিল করবেন?

আপনার পূর্ববর্তী ই-পাসপোর্ট বাতিল করতে পারবেন পাসপোর্ট অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করে। তাদের নির্দেশানুসারে আপনাকে বাতিল প্রমাণ করতে হবে এবং সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

৫. কি ধরণের ভ্রমণের জন্য ই-পাসপোর্ট প্রয়োজন?

ই-পাসপোর্ট আপনাকে বিভিন্ন ধরণের ভ্রমণে সুবিধা দেয়, যেমন পরিবেশগত ভ্রমণ, ব্যাপারিক ভ্রমণ, পরিবেশ সেরা করে ভ্রমণ ইত্যাদি। এটি আপনার অনুভব ও প্রাণান্ত সমৃদ্ধ করবে।

তথ্যঃ- মীর রাব্বি হোসেন (Mir Rabbi Hossain)

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url